হাওজা নিউজ এজেন্সি: শুক্রবার তুর্কমেনিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শান্তি ও আস্থা ফোরামের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং ইরাকের প্রেসিডেন্ট আবদুল লতিফ রাশিদের বৈঠক হয়।
বৈঠকে ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাক্ষাতে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং নিজ দেশে সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইরান ইরাকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী। দুই দেশের নিরাপত্তা গভীরভাবে আন্তঃসংযুক্ত, এবং ইরাকি সরকার ও জনগণের প্রতি ইরানের ধারাবাহিক সমর্থন সর্বদা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।
ইরাকি প্রসিডেন্ট রাশিদ আরও বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে “যে কোনো ধরনের বাধা” ইরাকের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি ফিলিস্তিন ও অঞ্চলের দেশগুলোর ওপর ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এসব আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট, দৃঢ় ও কার্যকর অবস্থান গ্রহণ জরুরি। তিনি যোগ করেন, “জায়নিস্ট শাসনব্যবস্থা আঞ্চলিক সংকটের প্রধান উৎস। তারা শুধু সামরিক আগ্রাসনই নয়, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমেও এমন বাধা সৃষ্টি করে যা অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে গঠনমূলক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠাকে ব্যাহত করে।”
রাশিদ জোর দিয়ে বলেন, “আঞ্চলিক দেশগুলো—বিশেষত ইরান ও ইরাক—ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং জাতিসংঘের কাঠামোর মধ্যেও শক্তিশালী ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে, যাতে ইসরায়েলি হুমকি সম্পর্কে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা যায়।”
তিনি নিরাপত্তা, বাণিজ্য, শিল্প, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
নিজের বক্তব্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইরাকে শান্তিপূর্ণ ও সমস্যা-মুক্ত নির্বাচন আয়োজিত হওয়ায় প্রেসিডেন্ট রাশিদকে অভিনন্দন জানান এবং আশা করেন, শক্তিশালী সংসদ ও সরকার গঠনের মাধ্যমে ইরাকের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।
তিনি ইরান ও ইরাকের ব্যবসায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং যৌথ বিনিয়োগ ও সীমান্ত যোগাযোগ উন্নয়নকে তেহরানের অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।
পেজেশকিয়ান অঞ্চলে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার “ধ্বংসাত্মক ভূমিকা” তুলে ধরে এটিকে “ক্যান্সারসদৃশ টিউমার” হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, এই শাসনব্যবস্থা ইসলামী দেশগুলোর বৈজ্ঞানিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং শিল্প-সম্পর্ককে দুর্বল করতে চায় এবং জাতীয় ও সাম্প্রদায়িক সংঘাত উসকে দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই বিপর্যয়কর নীতির মোকাবিলার উপায় হলো—সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ, যৌথ বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং এমন সব বিনিময় জোরদার করা যা আঞ্চলিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ও সংহতি সৃষ্টি করে।
আপনার কমেন্ট